বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজারে বালুবাহী ট্রাক প্রবেশকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাহিলাড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে এক পক্ষের ওপর হামলার প্রতিবাদে অপর পক্ষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য মো. রাসেল খন্দকার বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ যুবদল কর্মী মো. সবুজ সিকদারকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। অন্যদিকে সবুজ সিকদারের পক্ষের মোজাহার সন্যামাত বাদী হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকারসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং মেঘলা আক্তার বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মো. মনির হোসেনসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে; একটি মামলা ইতোমধ্যে রেকর্ড হয়েছে এবং বাকিগুলো তদন্ত সাপেক্ষে রেকর্ড করা হবে।
মঙ্গলবার সকালে মাহিলাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাসেল খন্দকারের সমর্থকরা হামলার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম খলিফা, জেলা উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদুল আলম খান সেন্টু এবং সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক জিএস ফুয়াদ হোসেন এ্যানি। সমাবেশে যুবদল নেতা সোহাগ মোল্লা ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল-আমিন মোল্লাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত থেকে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সকালে মাহিলাড়া থেকে নলচিড়াগামী একটি বালুর ট্রাকের চালকের সাথে স্থানীয় হৃদয় সরদার ও তার সহযোগীদের কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে যুবদল কর্মী রাসেল ও সুজন মুন্সী চালকের পক্ষ নিয়ে হৃদয়ের ওপর চড়াও হলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হন। বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
