বরিশালের গৌরনদীতে নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। ইউএনও কার্যালয়ে ইউপি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার গৌরনদী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জানা গেছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পরিষদের ১১ জন সদস্য গত ২৮ এপ্রিল চেয়ারম্যান হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরী। গত ৬ মে সেই অভিযোগের শুনানির দিন ধার্য ছিল। অভিযোগকারী সদস্যরা শুনানিতে অংশ নিতে ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছালে চেয়ারম্যানের পক্ষে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইসমাইল হোসেনসহ ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের মদদে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবু বকর ও যুবদলের সদস্য সচিব ফুয়াদ হোসেন এনির নেতৃত্বে ২০-২৫ জন এই হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে সদস্যরা অফিস সহকারী আব্দুর রবের কক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানেও ভাঙচুর চালানো হয়।
এ ঘটনায় ইউপি সদস্য ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধাকে প্রধান আসামি করে এবং বিএনপি ও যুবদলের নেতাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অন্যদিকে, অফিস কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় অফিস সহকারী আব্দুর রব একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অভিযুক্তরা একে অপরের ওপর দায় চাপালেও যুবদল নেতা ফুয়াদ হোসেন স্বীকার করেছেন যে, পূর্ব শত্রুতার জেরে তিনি মারধর করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী জানিয়েছেন, দাপ্তরিক কাজে তিনি বাইরে ছিলেন, তবে খবর পেয়েই পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
