আল জাজিরার এই বিশেষ নিবন্ধ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল ক্ষমতা, রাজনীতি এবং আপোসহীন প্রতিরোধের এক মহাকাব্য। ৭৯ বছর বয়সে আজ (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিবন্ধের মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
রাজনীতিতে উত্থান: ১৯৪৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা ছিল অনেকটা নাটকীয়। ১৯৮১ সালে স্বামী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর দলের অস্তিত্ব রক্ষায় তিনি রাজনীতিতে নামেন। ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর দীর্ঘ ৯ বছর এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করে তিনি ‘আপোসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
ক্ষমতা ও সংস্কার: খালেদা জিয়া মোট তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৯১-৯৬, ১৯৯৬ এবং ২০০১-০৬)। তার সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণ, পোশাক শিল্পের প্রসার এবং বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২০০৬ সালে তার মেয়াদের শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৭ শতাংশ, যা তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সর্বোচ্চ ছিল।
বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ: সফলতার পাশাপাশি তার শাসনামল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বিদ্ধ ছিল। তার বড় ছেলে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয় ‘হাওয়া ভবন’কে ঘিরে সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরির অভিযোগ এবং ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলাসহ নানা রাজনৈতিক অস্থিরতা তার লিগ্যাসিকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করে। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারারুদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অসুস্থ অবস্থায় গৃহবন্দি ও হাসপাতালে কাটান।
প্রতিরোধ ও শেষ জীবন: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চরম সংকটেও দেশ ছেড়ে না পালানোর সিদ্ধান্ত। জেল-জুলুম সহ্য করেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শন করেন।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন প্রশ্ন উঠছে খালেদা জিয়া-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে, যেখানে তার উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের ওপর বড় দায়িত্ব বর্তেছে।
