ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এই অঞ্চলের মানচিত্রকে আমূল বদলে দেওয়ার এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী সরকার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের বিষয়টিকে বর্তমানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ১২,৮১৫টি নতুন ঘর তৈরি করা হলেও বর্তমান সরকারের আমলে এই সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বসতি এবং আউটপোস্টের (অননুমোদিত বসতি) সংখ্যা ১৪১টি থেকে বেড়ে ২১০টিতে দাঁড়িয়েছে।
পশ্চিম তীরে বর্তমানে ৩ মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। নতুন এই বসতিগুলো উত্তর দিকের জেনিন থেকে শুরু করে দক্ষিণ দিকের হেব্রন পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। ইসরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজ ভূমিতে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। বসতিগুলোর সংযোগের জন্য শুধুমাত্র ইসরায়েলিদের ব্যবহারের উপযোগী মহাসড়ক তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর সামরিক তল্লাশি এবং বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলো অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের উপস্থিতি বেআইনি এবং তা দ্রুত শেষ হওয়া উচিত। কিন্তু ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, যিনি নিজেও একজন বসতি স্থাপনকারী, তিনি এই সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তার মতে, গত তিন বছরে অনুমোদিত বসতির সংখ্যা ৬৯টিতে পৌঁছেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং ইসরায়েলের ইউরোপীয় মিত্ররা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা মনে করেন, এই ধরনের সম্প্রসারণ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিশেষ করে ‘ই-ওয়ান’ বসতি পরিকল্পনার মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে, যা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
