ডেনমার্ক ঘোষণা করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তাদের বিদেশ মন্ত্রণালয়ে তলব করবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য একটি বিশেষ দূত নিয়োগের পর বিপুল কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায়।
গ্রিনল্যান্ড হলো ডেনমার্কের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত একটি বিশাল ভূখণ্ড। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট লুইজিয়ানার এক রাজ্যপালকে এই অঞ্চলের জন্য বিশেষ দূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। এই পদক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট দূত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সম্প্রচার করেছেন যে তিনি “গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বানাতে” কাজ করবেন বলে মনে করেন, যা ডেনমার্কের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন যে এই ঘোষণায় তিনি “অতীতে হয়েছে এমন আরও এক ধাপ” এবং এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন যে, সকল দেশের—including আমেরিকার—উচ্চ শ্রেণির কূটনৈতিক আচরণে ডেনমার্কার সার্বভৌমত্ব ও সমগ্র ভূখণ্ডের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে এই নিয়োগ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হবে।
গ্রিনল্যান্ডের নেতৃবৃন্দও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ তারা নিজেদের মানুষের হাতে নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছে। তারা স্পষ্ট করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করার বিষয়টি তাদের কোনো আলোচনায় নেই এবং তাদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও ডেনমার্কের এই অবস্থানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে এবং বলেছে যে ডেনমার্কের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার ফলে ডেনমার্ক ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলেও নজর কাড়ছে।
