যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের নতুন নিরাপত্তা নীতি সম্পর্কে রাশিয়ার সরকার ইতোমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছে। মস্কোর মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন নীতির বেশ কিছু উপাদান রাশিয়ার নিজস্ব কূটনৈতিক ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পুরনো নীতিতে রাশিয়াকে একটি প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, নতুন নীতিতে এমন ভাষা ব্যবহৃত হয়নি।
নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিয়ে এখন তাদের চিন্তা “ভিন্ন মাত্রা” পেয়েছে — এবং তারা পুরনো নিয়মিত বিরোধিতার বদলে নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে। আর রাশিয়া এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে। রাশিয়া মনে করে, এই দৃষ্টিভঙ্গার পরিবর্তন অর্থাৎ পুরনো শীতল যুদ্ধ-মোডের বদলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর ইউরোপীয় দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তারা বলছে, ইউএস ঠিক করলেও, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং শক্তি ভারসাম্য নিয়ে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ন্যাটো সম্প্রসারণ, ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও ইউরোপীয় ঐতিহ্য-সংস্কৃতি নিয়ে নতুন সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নিরাপত্তা নীতির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ব্যবধান কমবে না — বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। যদি বাস্তবে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নয়া পন্থা অনুসরণ শুরু করে, তাহলে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া-প্রশান্ত কার্যক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন নীতির কথাগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়, এবং সেই পরিবর্তন বিশ্বের বাকি দেশগুলো — বিশেষভাবে ইউরোপ ও আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোকে কোন পথে নিয়ে যায়।
