আল জাজিরার এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে শীতকালীন ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জীবন চরম সংকটে পড়েছে। নিবন্ধটির মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ইসরায়েলি হামলা ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী রাফাহর উত্তর, খান ইউনিসের পূর্ব, মধ্য গাজার মাঘাজি ক্যাম্প এবং উত্তরের বেইত লাহিয়াতে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকায় বাস্তুচ্যুত একটি পরিবারের তাঁবুর কাছেও হামলা হয়েছে। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ৯৬৯ বার এটি লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে ৪১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১১০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
বন্যা ও মানবিক বিপর্যয়: গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় গাজার বাস্তুচ্যুতদের অস্থায়ী তাঁবুগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আল-মাওয়াসি এবং দেইর আল-বালাহ-র মতো এলাকাগুলোতে তাঁবুগুলো কর্দমাক্ত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে তারা তাদের প্রয়োজনীয় বিছানা, বালিশ বা খাবারটুকুও বাঁচাতে পারেননি। তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে শিশুদের নিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অবকাঠামো ধস: স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বন্যার পানি দূষিত হয়ে পড়ছে, যা মহামারি ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত পুরনো ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে; ইতিমধ্যে ভবন ধসে অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
ত্রাণ সহায়তায় বাধা: ত্রাণ সংস্থাগুলো তাঁবুসহ প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য বারবার আবেদন জানালেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় এসব সামগ্রী প্রবেশের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। ফলে চরম শীতে আশ্রয়ের অভাবে হাজার হাজার মানুষ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
