ট্রাম্পের হামলার হুমকির মুখে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি

আল জাজিরার এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষিতে ইরান একটি “কঠোর ও অনুশোচনা-উদ্রেককারী” জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই ঘটনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও বড় ধরনের হামলা চালাবে। ট্রাম্প বলেন, “আমি শুনছি ইরান আবার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যদি তারা তা করে তবে আমাদের তাদের গুঁড়িয়ে দিতে হবে।” ট্রাম্প আরও জানান যে, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র এবং দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর অবিলম্বে হামলা চালাতে তিনি সমর্থন দেবেন।

ট্রাম্পের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সতর্ক করে বলেছেন যে, যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত কঠোর। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইউরোপের সাথে একটি “পুরোদস্তুর যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের চেয়েও জটিল।

গত জুন মাসে ১২ দিনের এক বিধ্বংসী যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের ২৭টি প্রদেশে প্রায় ৩৬০টি হামলা চালিয়েছিল, যাতে ১,০০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইরান গোপনে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পুনর্গঠন করছে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের সামরিক বাহিনী এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম।

এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা মার্কিন গোয়েন্দারা আগে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো প্রমাণ না পেলেও, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *