কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে নতুন করে সংঘাত: সহিংসতা বন্ধে প্রথম দফার বৈঠক শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান এই সংঘাত নিরসনে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে যখন প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই বুধবার সীমান্ত জুড়ে পুনরায় গোলাগুলি ও পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া গেছে।

থাইল্যান্ডের সিসাকেত এবং সুরিন সীমান্ত প্রদেশে নতুন করে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে উভয় পক্ষ ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে। থাই সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কম্বোডিয়ার রকেট হামলার জবাবে তারা কামান, ট্যাঙ্ক এবং ড্রোন ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই সংঘর্ষে এক থাই সেনা আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা অভিযোগ করে জানিয়েছে যে, থাই বাহিনী বাত্তাম্বং প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, থাই বাহিনীর শেল ও বিমান হামলায় বেসামরিক আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে অন্তত দুই জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।

ভয়াবহ এই সংঘাতের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার দুই দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বান পাককাদ-পাইলিন সীমান্ত পারাপারে একটি বিশেষ বৈঠকে বসেন। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকলেও বিশ্লেষকরা বড় ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, যেহেতু এটি মূলত সামরিক পর্যায়ের বৈঠক, তাই এখান থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা কম। তবে উভয় পক্ষই এই আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং যোগাযোগের একটি পথ খোলা রাখার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য যে, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ এবং সীমান্তের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মালিকানা নিয়ে ঔপনিবেশিক আমল থেকেই বিরোধ চলে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিরোধ কয়েকবার সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *