রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে কসোভোয় আগাম সংসদীয় নির্বাচন

ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ কসোভোয় এক বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দেশটির নাগরিকরা। গত ১১ মাসের মধ্যে এটি দেশটিতে দ্বিতীয় দফা সাধারণ নির্বাচন। রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দল ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন মুভমেন্ট’ (এলভিভি) এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের আশায় লড়ছে, যাতে তারা এককভাবে সরকার গঠন করে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে পারে।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব গত ৯ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আলবিন কুর্তির দল সবচেয়ে বেশি ভোট পেলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। বিরোধী দলগুলো কুর্তির সাথে জোট বাঁধতে অস্বীকার করায় দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক স্থবিরতা বিরাজ করছে। এই অচলাবস্থার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আসা প্রায় ১০০ কোটি ইউরোর ঋণ চুক্তির অনুমোদন আটকে আছে, যার মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া আগামী এপ্রিলে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

ভোটারদের প্রত্যাশা ও স্থানীয় বাস্তবতা কসোভোর ভোটাররা এ বছর ইতোমধ্যে চারবার বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। বারবার নির্বাচনের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। দেশটির ১.৬ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো সমস্যার মোকাবিলা করছে। ভোট টানতে প্রধানমন্ত্রী কুর্তি সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বছরে এক মাসের অতিরিক্ত বেতন এবং বছরে ১০০ কোটি ইউরো মূলধনী বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সুসম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছে।

সার্বিয়ার সাথে উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক প্রভাব ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও কসোভোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। রাশিয়া, সার্বিয়া, গ্রিস ও স্পেনের মতো দেশগুলো এখনো কসোভোকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ২০২৩ সালে উত্তর কসোভোর সার্ব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কসোভোর ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা দেশটির অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কসোভো ও সার্বিয়া—উভয় দেশকেই তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। রোববারের এই নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে সার্বিয়ার সাথে কসোভোর আলোচনা কোন পথে এগোবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *