রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ১৪০৩তম দিনে বেশ কিছু নাটকীয় মোড় এবং ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। একদিকে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির আসন্ন বৈঠককে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। নিচে এই দিনের প্রধান ঘটনাবলি তুলে ধরা হলো:
ভয়াবহ হামলা ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়া শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে বিশাল হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া প্রায় ৫০০টি ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামো। এই হামলার ফলে কিয়েভসহ বিশাল এলাকায় জরুরি বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয় এবং তীব্র শীতের মধ্যে ১০ লক্ষাধিক পরিবার বিদ্যুৎ ও উত্তাপহীন অবস্থায় পড়ে। হামলার প্রভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ পোল্যান্ডের দুটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পোলিশ বিমান বাহিনী সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে।
যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তাদের বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চলের মিরনোহরাদ, রোদিনিস্ক ও আর্তেমিতকা এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোল ও স্তেপনোহিরস্ক শহর দখল করে নিয়েছে। তবে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা মিরনোহরাদ ও হুলিয়াইপোলের কাছাকাছি রুশ অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়াও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। মস্কোর মেয়র জানান, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা ১১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোর ভনুকোভো ও শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক যুদ্ধের সমাপ্তি টানার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জেলেনস্কির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। এই বৈঠকের আগে জেলেনস্কি কানাডার হ্যালিফ্যাক্সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাথে দেখা করেন। কার্নি রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাকে ‘বর্বরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের জন্য ১.৮৩ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সহায়তার ঘোষণা দেন। জেলেনস্কি জানান, ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে তিনি ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা জেলেনস্কির কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রেখে একটি স্থায়ী শান্তির পক্ষে তাদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, কিয়েভ শান্তিপূর্ণ উপায়ে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেন যদি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে, তবে রাশিয়া শক্তির প্রয়োগে তাদের ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’-এর লক্ষ্যগুলো অর্জন করবে।
