পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ‘সাধারণ সংহতি’ (জেনারেল মোবিলাইজেশন) ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে নাগরিকদের সম্পদ ও সেবা তলব (রিকুইজিশন) করার ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আদেশ জারি করা হয়।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মাতৃভূমি রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিটি নাগরিককে অবিলম্বে যেকোনো ডাক বা নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকতে হবে। বর্তমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী যেকোনো ব্যক্তি, সম্পত্তি বা সেবাকে প্রতিরক্ষা কাজের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রিকুইজিশন করা যাবে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাজুমকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশটিতে সামরিক শাসন চলছে। সরকারের এই নতুন ঘোষণা দেশটিতে বিদ্যমান জরুরি অবস্থার আরও বড় ধরনের বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নাইজার আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস (আইএসআইএল) সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ সহিংসতার মোকাবিলা করছে। একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সহিংসতায় ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও তাদের দলছুট গোষ্ঠীগুলোর নিয়মিত হামলা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম চাপের মুখে রেখেছে। এর আগে সরকার সামরিক বাহিনীর পরিধি বাড়িয়ে ৫০ হাজার সদস্যে উন্নীত করেছিল এবং জেষ্ঠ্য কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়েছিল।
সামরিক জান্তা ক্ষমতায় আসার পরপরই নাইজার থেকে ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটিকে বিদ্রোহ দমনে সহায়তা করে আসছিল। পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে নাইজার বর্তমানে প্রতিবেশী মালি ও বুরকিনা ফাসোর সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়িয়েছে, যেখানেও সামরিক শাসন চলছে। এই তিন দেশ মিলে ইতোমধ্যে ৫ হাজার সদস্যের একটি যৌথ বাহিনী গঠন করেছে, যাকে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন মেরুকরণ হিসেবে অভিহিত করছে।
