কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সহিংসতা: চার শতাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু, শান্তিচুক্তি ব্যর্থ

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় চার শতাধিক সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। অঞ্চলটিতে বিদ্রোহী দলের হামলা ও পাল্টা সংঘর্ষের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতকে থামানোর জন্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল, তা কার্যকর হওয়ার আগেই পুনরায় সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, পাহাড়ি এলাকা এবং সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো হঠাৎ একাধিক স্থানে আক্রমণ চালায়। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ বহু নিরপরাধ মানুষ হতাহত হয়। অনেক গ্রাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, মানুষ নিরাপত্তার আশায় আশপাশের অঞ্চল বা অন্য প্রদেশে পালিয়ে গেছে।

শহর ও গ্রামাঞ্চলের বহু এলাকায় গোলাগুলি, বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার ঘটনায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য, ওষুধ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সহিংসতার কারণে বহু পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

সম্প্রতি করা শান্তিচুক্তি ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘর্ষে জড়িত সব পক্ষকে আলোচনায় সম্পৃক্ত না করায় এই চুক্তি মূল সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি। ফলে চুক্তির পরও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে এবং সহিংসতা থামার পরিবর্তে আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে যে তারা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এসব এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলে সমগ্র পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোকেও সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।

সহিংসতা বাড়ার ফলে বিশেষ করে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। আশ্রয়স্থলের অভাব, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, চিকিৎসাসেবার অভাব—সব মিলিয়ে মানবিক বিপর্যয় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লক্ষাধিক মানুষ মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল বহু বছর ধরেই বিদ্রোহ, ভূখণ্ড দখলের লড়াই ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এবার নতুন করে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সহিংসতা এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আরও গভীর করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *