যুদ্ধবিদ্ধস্ত গাজা উপত্যকায় শীতকালীন ঝড় বায়রন আঘাত হানার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ভারী বৃষ্টি, তীব্র বাতাস ও ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যেই দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী লাখো মানুষ দুর্বল তাবুতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছিল। কিন্তু আকস্মিক প্রবল বর্ষণে অনেক তাবু পানিতে ডুবে গেছে, বহু পরিবার রাতের আঁধারে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাবুর ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় শীত, ভেজা কাপড়, নোংরা পানি এবং আবর্জনার কারণে শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে অসুস্থতা বেড়ে গেছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, ঠান্ডাজনিত রোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। দুর্বল অবকাঠামো, ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং চলছে এমন সংঘাত মিলিয়ে পানি নামতে পারছে না। ফলে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের আশপাশে জলাবদ্ধতা আরও খারাপ হয়েছে।
একটি হৃদয়বিদারক ঘটনায়, মাত্র আট মাসের একটি শিশু তাদের পরিবারের তাবু পানিতে ডুবে মারা গেছে। এই ঘটনা ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট মানবিক সংকট কতটা গভীর হয়েছে তা স্পষ্ট করে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে, ঝড় চলমান থাকলে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশা আরও বাড়তে পারে। জরুরি ভিত্তিতে উন্নতমানের তাবু, শীতবস্ত্র, শুকনো খাবার ও চিকিৎসাসামগ্রী না পেলে পরিস্থিতি বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে। কিন্তু সীমিত সহায়তা, খাদ্যের অভাব ও অব্যাহত সংঘাতের কারণে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের ক্ষতবিক্ষত গাজায় ঝড় বায়রনের আঘাত যেন নতুন করে এক মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। ভেঙে পড়া ঘরবাড়ি, ভিজে যাওয়া তাবু, ঠান্ডায় কাঁপতে থাকা শিশু, খাদ্য ও পানি সংকটে ভোগা পরিবার—সব মিলিয়ে গাজার মানুষের দুর্দশা এখন চরমে পৌঁছেছে।
