ধুরন্ধর সিনেমার কারণে আবার আলোচনায় এসেছে লিয়ারি। এক সময় এটি ছিল শান্তিপ্রিয় শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা, কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক, অপরাধ ও গ্যাং যুদ্ধে পরিচিত হয়ে ওঠে।
লিয়ারি মূলত করাচির একটি প্রাচীন বন্দর এলাকা। ব্রিটিশ শাসনকালে এটি শ্রমিক, নৌশ্রমিক এবং জাহাজ বোঝাইকারীদের বসতি হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কাজের অভাব এবং মৌলিক পরিষেবার ঘাটতি এই অঞ্চলে অপরাধের সুযোগ তৈরি করে।
১৯৬০-এর দশকে ছোটখাট গ্যাং শুরু হলেও পরবর্তীতে মাদক, চাঁদাবাজি এবং হত্যা নিয়ে গ্যাংগুলোর ক্ষমতা বেড়ে যায়। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং ভাষাভাষীদের বসবাসের কারণে সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। রাজনৈতিক দলের সমর্থন, বিশেষ করে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক, লিয়ারি‑র গ্যাং রাজনীতি এবং অপরাধকে আরও জটিল করে তোলে।
লিয়ারির সবচেয়ে কুখ্যাত গ্যাং নেতা ছিলেন রেহমান দাকাইত। তিনি মাদক, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা এবং হত্যার মাধ্যমে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার মৃত্যুর পরও গ্যাং রাজনীতি এবং অপরাধের সংস্কৃতি টিকে থাকে।
বর্তমান দিনে গ্যাং যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। পুলিশের কার্যক্রম, সামাজিক সচেতনতা এবং জনগণের মনোভাব এই পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। এখন লিয়ারি শুধু অপরাধের জন্য নয়, বরং সংস্কৃতি, খেলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্যও পরিচিত। ফুটবল ক্লাব, থিয়েটার এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোগ এলাকা নতুনভাবে গড়ার চেষ্টা করছে।
লিয়ারির ইতিহাস শেখায় যে, সামাজিক অবহেলা, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং অপরাধ নেটওয়ার্ক একত্রে বড় বিপদ তৈরি করতে পারে। তবে মানুষের সচেতনতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সংগঠন উদ্যোগের মাধ্যমে পুরনো ইতিহাসের ভয়াবহ চেইন ভেঙে নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।
