মরক্কোর প্রাচীন শহর ফেসে গতকাল গভীর রাতে দুই চারতলা আবাসিক ভবন একসঙ্গে ধসে গেছে। এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৯ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
ধ্বংস হওয়া ওই দুই ভবনে মোট আটটি পরিবার বসবাস করছিল। স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারদল দ্রুত কার্যক্রম শুরু করেছে। ধ্বংসস্তুপে আটকে থাকতে পারে এমন অন্যদের উদ্ধারে রাতভর কাজ চলছে এবং আশেপাশের বাড়িগুলোও সতর্কতার ভিত্তিতে খালি করা হয়েছে।
ফেস শহরটি প্রাচীন এবং অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে কম উন্নত। পুরনো বা ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না করা ভবনের সংখ্যা বেশি। গত কয়েক বছরে পুরনো আবাসিক ভবনের ঝুঁকি সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন বারবার সতর্ক করেছিল। কিছু ধ্বংস হওয়া ভবনে ইতোমধ্যেই ফাটল দেখা যেত, কিন্তু যথাযথ মেরামত বা পুনর্গঠন করা হয়নি। নিরাপত্তার স্বল্পতা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ, আহত ও নিখোঁজ মানুষ উদ্ধার করা হচ্ছে। আশেপাশের বাড়ির মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই দুর্ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয় — এটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা, যেখানে পুরনো অবকাঠামো, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং উপযুক্ত বাড়ি নির্মাণ নীতির অবহেলা একত্রে মানব জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ শুধু এক রাতের ঘটনা নয়। ফেসের মতো পুরনো শহরগুলোতে অনেক পুরনো ভবন এখনও বাসযোগ্য। যদি সময়মতো এসব ভবনের মেরামত বা পুনর্গঠন না করা হয়, ভবিষ্যতে আরও এমন দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা মান, কঠোর ভবন আইন এবং নিয়মিত তদারকি ছাড়া অনেকে নিরাপদ গৃহহীন হয়ে পড়তে পারেন। এ ধরনের ঘটনা সামাজিক ও আর্থিক বাস্তবতাকেও উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
