একজন প্রভাবশালী দৈনিক পত্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ধনকুবের জেফ্রি এপস্টিনকে নিজ শর্তে সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর গণমাধ্যম জগতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ওই প্রস্তাবে সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তু, প্রশ্নের ধরন এবং প্রকাশের কাঠামো নিয়ে বিশেষ শর্তের কথা বলা হয়েছিল।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাংবাদিকের উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনা এবং জনস্বার্থে সত্য উন্মোচন করা। তবে সমালোচকদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজ শর্তে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলে সত্য আড়াল হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং নৈতিক সীমারেখা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
এই প্রসঙ্গে গণমাধ্যম নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাক্ষাৎকার নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়া জরুরি। অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে, এপস্টিনকে ঘিরে অতীতে ওঠা অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপটে এমন প্রস্তাবের খবর জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ভুক্তভোগীদের কণ্ঠকে প্রাধান্য না দিয়ে অভিযুক্তকে সুবিধা দেওয়া ন্যায়সংগত নয়।
পাল্টা যুক্তিতে বলা হচ্ছে, কঠিন ও স্পর্শকাতর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য কখনো কখনো অপ্রচলিত পদ্ধতিও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে সেই ক্ষেত্রে কঠোর সম্পাদকীয় নজরদারি ও স্পষ্ট নৈতিক নির্দেশনা অপরিহার্য।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সত্যের অনুসরণ যেমন জরুরি, তেমনি নৈতিকতা ও জনস্বার্থের সীমারেখা অতিক্রম না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
