সোমালিল্যান্ডকে ইসরায়েলের স্বীকৃতির প্রতিবাদে সোমালিয়াজুড়ে বিক্ষোভ

সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রতিবাদে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। আল জাজিরার এই প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘটনার মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

ইসরায়েল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গত শুক্রবার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল সোমালিল্যান্ডকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে মোগাদিশুর প্রধান ফুটবল স্টেডিয়াম এবং বিমানবন্দরের আশেপাশে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে সোমালিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ করেন এবং জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। মোগাদিশু ছাড়াও বাইদোয়া, ধসামারেব এবং লাস আনোদের মতো শহরগুলোতেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে একটি “অবৈধ পদক্ষেপ” হিসেবে অভিহিত করেছেন যা লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে। তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সাথে আলোচনার জন্য ইস্তাম্বুল সফর করছেন, কারণ আঙ্কারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে ইসরায়েলের একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য দেশও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। সোমালিয়ার জাতিসংঘ দূত সতর্ক করেছেন যে, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে গাজার ফিলিস্তিনিদের উত্তর-পশ্চিম সোমালিয়ায় জোরপূর্বক স্থানান্তরের পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা করা হতে পারে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা হুমকি দিয়েছে যে সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের যেকোনো উপস্থিতি তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইসরায়েল তাদের এই সিদ্ধান্তকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর চেতনার অংশ হিসেবে দাবি করে বলেছে যে এটি সোমালিয়ার প্রতি কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নয়। তবে সোমালিয়া এই পদক্ষেপকে তাদের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *