হার্ভার্ডে কোসাম্বি পরিবারের শতবর্ষী শিক্ষা ও পাণ্ডিত্যের উত্তরাধিকার

ভারতের শিক্ষা ও মেধার ইতিহাসে কোসাম্বি পরিবারের নাম এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। ১৯১০ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কোসাম্বি পরিবারের তিন সদস্য—ধর্মানন্দ কোসাম্বি এবং তার দুই সন্তান মানিক ও দামোদর কোসাম্বি যে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন, তা আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সেই সময়ে যখন বিদেশে পড়াশোনা করা আজকের মতো সহজ ছিল না, তখন বর্ণবাদ, ভাষাগত বাধা এবং সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে তারা হার্ভার্ডে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছিলেন। ধর্মানন্দ কোসাম্বি ছিলেন পালি ভাষা এবং বৌদ্ধ শাস্ত্রের একজন অগ্রগণ্য পণ্ডিত। হার্ভার্ডে থাকাকালীন তিনি ‘বিসুদ্ধিমগ্গ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ গ্রন্থের সম্পাদনা করেন, যা পশ্চিমা বিশ্বে এশীয় শাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। শিক্ষাক্ষেত্রের বাইরে তিনি জাতিভেদ প্রথা বিলোপ এবং নারী শিক্ষার কট্টর সমর্থক ছিলেন।

ধর্মানন্দের কন্যা মানিক কোসাম্বি ১৯২২ সালে হার্ভার্ডের তৎকালীন নারী কলেজ ‘র‍্যাডক্লিফ কলেজ’ থেকে দর্শনশাস্ত্রে প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার এই কৃতিত্ব তৎকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় নারীদের উচ্চশিক্ষার পথে এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। অন্যদিকে, পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য দামোদর ধর্মানন্দ কোসাম্বি (ডি. ডি. কোসাম্বি) পরবর্তীকালে ভারতের অন্যতম সেরা বুদ্ধিজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯২৯ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে স্নাতক শেষ করে ভারতে ফিরে তিনি ইতিহাস চর্চায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন। তিনি পরিসংখ্যান এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়ে ভারতীয় ইতিহাসের পুনর্গঠন করেন, যা আজও পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণায় আকর হিসেবে বিবেচিত হয়। কোসাম্বি পরিবারের এই হার্ভার্ড যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না, বরং এটি ছিল মেধা ও নিষ্ঠার জোরে বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় পাণ্ডিত্যের শক্ত ভিত্তি স্থাপনের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *