চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মুখে গাজার রোগীরা: ইসরায়েলি অবরোধে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিপর্যয়

গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এক নজিরবিহীন পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ইসরায়েলি কঠোর অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে হাজার হাজার রোগী মৃত্যু অথবা চিরস্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে রয়েছেন। মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বার্শ এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানান।

ভয়াবহ সংকটের চিত্র: মুনির আল-বার্শ হাসপাতালের ভেতরের পরিস্থিতিকে “মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বর্তমানে গাজায় নেই। বিশেষ করে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, অ্যানেস্থেশিয়া (অজ্ঞান করার ওষুধ), গজ এবং ডায়ালাইসিসের উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জেনারেটরের অভাব চিকিৎসকদের কাজকে আরও অসম্ভব করে তুলেছে।

বিপন্ন জনস্বাস্থ্য: এই সংকট কেবল যুদ্ধাহতদের নয়, বরং সাধারণ রোগীদেরও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে গাজায়:

  • প্রায় ৪,০০০ গ্লুকোমা রোগী চিকিৎসার অভাবে চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।

  • প্রায় ৪০,০০০ অন্তঃসত্ত্বা নারী অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক।

  • খাদ্যাভাব ও পুষ্টিহীনতার কারণে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩,২০,০০০ শিশু মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিদেশে চিকিৎসা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: গাজার বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০,০০০ রোগী দীর্ঘ অপেক্ষায় রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৪,৩০০ শিশু। অনুমতির এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ইতোমধ্যেই ১,১৫৬ জন রোগী চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার আগেই মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে রেফারেল পাওয়ার পরও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা অনুমোদনের জন্য রোগীদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল প্রতিশ্রুত পরিমাণ চিকিৎসা সহায়তা গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭১,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭১,০০০ এরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *