ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী কয়েক হাজার বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। ওমানের রাজধানী মাসকাটে প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর এই সমঝোতা হয় বলে মঙ্গলবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চুক্তির বিস্তারিত: হুথি প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় তারা ১,৭০০ বন্দিকে মুক্তি দেবে। এর বিপরীতে ইয়েমেন সরকার ১,২০০ হুথি যোদ্ধাকে ছেড়ে দেবে। এই ১,২০০ জনের মধ্যে ৭ জন সৌদি নাগরিক এবং ২৩ জন সুদানি নাগরিক রয়েছেন। সৌদি নাগরিকদের মধ্যে ২ জন বিমানবাহিনীর পাইলট বলে সরকারি পক্ষ নিশ্চিত করেছে।
মানবিক দিক ও বিশ্ব প্রতিক্রিয়া: ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ এই চুক্তিকে একটি “ইতিবাচক ও অর্থবহ পদক্ষেপ” হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে বন্দি থাকা ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর ভোগান্তি কমবে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি জানিয়েছে, তারা বন্দিদের স্থানান্তর ও নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ তদারকি করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানানো হয়েছে। সৌদি প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই বন্দি বিনিময় ইয়েমেনে শান্তি বজায় রাখতে এবং দুই পক্ষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া ইয়েমেন যুদ্ধ ২০২২ সাল থেকে অনেকটা থমকে থাকলেও সম্প্রতি কিছু অঞ্চলে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। দীর্ঘ এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং দেশটির কয়েক কোটি মানুষ বর্তমানে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এই বন্দি বিনিময় চুক্তিকে তাই দেশটির শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
