নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে উগ্রবাদী গোষ্ঠী আইসিল-এর আস্তানায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে যে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে মার্কিন বাহিনীর এই হামলায় জঙ্গিদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। মূলত নাইজেরিয়া সরকারের অনুরোধ এবং দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের ধরণ ও লক্ষ্যবস্তু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে গিনি উপসাগরে অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজ থেকে এক ডজনেরও বেশি শক্তিশালী টমাহক মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। সোকোটো রাজ্যের দুর্গম এলাকায় যেখানে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়েছিল, সেগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা নষ্ট করা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
এই সামরিক পদক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে একে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নাইজেরিয়ায় নিরপরাধ মানুষদের ওপর যারা নির্মমতা চালিয়ে আসছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। তার মতে, বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ দমনে এটি একটি পরিষ্কার বার্তা এবং আমেরিকা তার মিত্রদের সুরক্ষায় সবসময় প্রস্তুত।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা শঙ্কা
নাইজেরিয়া সরকার এই হামলাকে সফল দাবি করলেও দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন যে শুধুমাত্র সামরিক শক্তি দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের মতে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সুশাসন এবং স্থানীয় উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। এদিকে সোকোটো এলাকায় জঙ্গিদের আকস্মিক উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে যা জননিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন নাইজেরিয়ার মাটিতে মার্কিন বাহিনীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি যেমন একদিকে সন্ত্রাসীদের কোণঠাসা করবে, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে। বর্তমানে ওই এলাকায় নাইজেরীয় সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
