যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, মাদুরোর জন্য পদত্যাগ করাটাই হবে “বুদ্ধিমানের কাজ”। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মাদুরো যদি “কঠোর হওয়ার চেষ্টা করেন”, তবে সেটিই হবে তার শেষ চেষ্টা।
উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে তেল ও ট্যাঙ্কার: যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড বর্তমানে ভেনেজুয়েলার একটি তেল ট্যাঙ্কারকে ধাওয়া করছে। এর আগে তারা ভেনেজুয়েলার দুটি ট্যাঙ্কার এবং প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল জব্দ করেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন যে, জব্দ করা জাহাজ ও তেল তারা নিজেদের কাছেই রেখে দেবেন এবং প্রয়োজনে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুদে যোগ করবেন। ভেনেজুয়েলা এই ঘটনাকে “আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা” হিসেবে অভিহিত করেছে।
মাদুরোর প্রতিক্রিয়া: নিকোলাস মাদুরো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের উচিত অন্যের দেশকে হুমকি না দিয়ে নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর দিকে মনোনিবেশ করা। ভেনেজুয়েলা দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে তাদের বিশাল তেলের মজুদ দখল করার জন্য সরকার পতনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
রাশিয়া ও চীনের অবস্থান: এই সংকটে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বশক্তির দুই দেশ—রাশিয়া ও চীন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ভেনেজুয়েলার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে চীন এই ঘটনাকে “আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন” বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের অধিকারকে সমর্থন করেছে।
ভেনেজুয়েলার অনুরোধে এই সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা সতর্ক করে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
