গত এক বছরে সিরিয়ায় দুশো বা ততোধিক নয় — প্রায় ছয়শো হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ACLED নামের সংঘর্ষ-তথ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গড়পড়তা হিসেবে প্রায় প্রতিদিন একাধিক — প্রায় দুই বার — হামলা হয়েছে।
মূলত হামলাগুলো হয়েছে বিমান, ড্রোন বা আর্টিলারি অভিযান মিশ্রিত ভাবে। শুরু থেকেই, ইসরায়েল সিরিয়ার যেসব অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে — তার মধ্যে রয়েছে মিলিটারি ও বিদেশি শাসনাযুক্ত স্থাপনা, বিমানবন্দর, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা, এবং উচ্চ গুরুত্বসম্পন্ন অবকাঠামো। বিশেষভাবে হামলার ঝোঁকা ছিল দক্ষিণ সিরিয়া ও গোলোান উচ্চভূমি সংলগ্ন এলাকাগুলোতে।
সবচেয়ে বেশি আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছে Quneitra — যেখানে রেকর্ড অনুযায়ী ২৩২–র বেশি হামলা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে Deraa — সেখানে প্রায় ১৬৭ বার হামলা। রাজধানী এলাকায়, অর্থাৎ Damascus (সহ তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে) রেকর্ড করা হয়েছে ৭৭ বা তার বেশি হামলা।
ইসরায়েল কেন সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে?
ইসরায়েলের দাবি — তারা সিরিয়ার ভূখণ্ডে অস্ত্র ও ক্ষতিকর সামগ্রী পৌঁছানোর বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাদের নির্দেশনায়, তারা “কঠোর নিরাপত্তা”: বা “চ্যালেঞ্জ” হিসেবে দেখছে, এমন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অস্ত্র চালান রুখতে হবে। বিশেষ করে, তারা মুলত পূর্ববর্তী শাসন ও সামরিক অবকাঠামো ভূপাতিত করার দিকে নজর দিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে অন্য গোষ্ঠীরা অস্ত্র পাচার বা পুনর্ব্যবহার না করতে পারে।
তবে বিরোধীরা বলছেন, শুধু অস্ত্র ধ্বংস করাই নয় — এটা সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা ও মানুষের নিরাপত্তা ক্ষুণœ করার একটি অংশ। কারণ হামলার কারণে শুধু সামরিক উপকাঠামো নয়, সাধারণ জনজীবন, বসতি ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া — সবই ভঙ্গুর হয়েছে।
সামরিক হামলা থেকে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ধরণের বিরামহীন হামলা শুধু যুদ্ধ নয় — এটি সিরিয়ায় কট্টর অস্থিরতার বীজ বপন করছে। দক্ষিণ সিরিয়া ও গোলোান অঞ্চলের অনেক মানুষ নিজেদের বাড়ি–ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, ধ্বংসযজ্ঞ ও পরাজয় এই এলাকার সাধারন মানুষকে এক অপরিকল্পিত বাস্তুচ্যুতি ও দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে, সিরিয়ার নতুন শাসনব্যবস্থা এবং গঠনপ্রর্কিয়া — যা যুদ্ধ ও উত্তেজনার পর গড়ে উঠছে — তার ওপর এই হামলার প্রভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বহিরাগত হস্তক্ষেপ এবং সামরিক আঘাত সিরিয়ার পুনর্গঠন, সংহতি বা স্বশাসন রূপায়ণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
ইসরায়েলের এই হামলা ও সঙ্গে ভূখণ্ড দখলের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং কিছু রাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকেই বলছেন — এটি আন্তর্জাতিক আইন, দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা–অধিকারকে বিনষ্ট করছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা — বিশেষ করে সিরিয়া, গোলোান, এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের নিরাপত্তা— ভবিষ্যতে গ্লোবাল রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
