অস্ট্রেলিয়া এখন এমন একটি আইন প্রনয়ন করেছে, যার মাধ্যমে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো কিশোর-কিশোরীদের অনলাইনে সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব ও ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা।
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে হয়ত মৌলিক কারণ হিসেবে রয়েছে — সামাজিক মাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অনুপযুক্ত বা অস্বাস্থ্যকর কনটেন্ট, মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, আত্মবিশ্বাসে পতন এবং গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার — এসব ঝুঁকি আইন প্রণেতারা বিবেচনায় রেখেছেন।
অনলাইন নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা হেফাজতের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যারা তুলনামূলক বড় এবং জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে — তারা নিশ্চিত করবে যে ১৬ বছরের কম বয়সীরা তাদের সেবা ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি কোম্পানিগুলো নিয়ম মানতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জরিমানা বা অন্যান্য আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
এই আইন শুধু নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি বন্ধ করবে না, পুরনো অ্যাকাউন্টও নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ করার নির্দেশ রয়েছে। যাতে কিশোররা আর অনায়াসে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে না পারে — এমন লক্ষ্য নিয়েই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও তর্ক — সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ
এই আইন কিশোরদের — বিশেষ করে ১৩-১৫ বছরের — জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আসা মানসিক চাপ ও প্রলোভন থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। অনেক অভিভাবক এবং শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এর ফলে কিশোররা অফলাইনে বেশি সময় ব্যয় করবে, পড়াশোনা, খেলাধুলা বা পরিবার-পরিবেশে ফিরে আসবে।
অপরদিকে, কিছু বিশ্লেষক এবং অধিকাংশ টেক-কোম্পানি বলছেন, এমন একান্ত নিষেধাজ্ঞা সবসময় কার্যকর হবে না। কারণ কপন-ভিজা (VPN) বা অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে অনেকে আইন বাইপাস করতে পারে। কিছু কিশোর এবং তাদের অভিভাবকরা হয়তো অন্য কম পরিচিত, নিরাপত্তাহীন প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপের দিকে ঝুঁকবে, ফলে সমস্যার মাত্রা বদলে যেতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো — সামাজিক মাধ্যম শুধু বিনোদন নয়, অনেক কিশোরের জন্য শিক্ষা, তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামাজিক সচেতনতার জায়গাও। আইন যে সব অ্যাপ নিষিদ্ধ করবে — সেখানে কিশোরদের সামাজিক বা শিক্ষাগত সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
কতিপয় আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মুক্ত বাক্স্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে, যখন কিশোররা সমাজ, পরিবেশ বা রাজনীতি সংক্রান্ত সচেতনতা বা মতামত শেয়ার করে — সেই সুযোগ হয়তো কমে যাবে।
