সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা বাড়ছে: ২০২৫ সালের পরিস্থিতি

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক কার্যক্রম আফ্রিকার তিন প্রান্তিক দেশ সোমালিয়ায় ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এই বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শতাধিক বিমান হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলার মূল লক্ষ্য ছিলো বাম্পর সংগঠন হিসেবে পরিচিত আল-শাবাব এবং আইএসআইএস-সোমালিয়া-সহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলোকে দুর্বল করা।

যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান সামরিক কমান্ড এবং সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জানুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার গলিস পর্বতমালায় আইএসআইএস-এর গুহা ও আবাসস্থলে বিমান হামলা করা হয়, যেখানে কয়েকজন জঙ্গিকে হতাহত করা হয়েছে। পরে আফ্রিকান কমান্ড আরও একাধিক সময় সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।

এই হামলার সূচনা করার পর থেকেই মার্কিন প্রশাসন জঙ্গি সংগঠনগুলোর দমনকে তার নীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রাধান্যের মাধ্যমে বর্ণনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব মন্তব্য করেছেন, এসব আক্রমণগুলো রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও যুদ্ধবিরোধী প্রচেষ্টার অংশ এবং সন্ত্রাসবাদকে প্রতিরোধে জরুরি বলে মনে করা হয়েছে।

কিন্তু এসব হামলাকে কেন্দ্র করে বড়ো একটি বিস্ময় হলো বেসামরিক মানুষের ওপর প্রভাব। স্থানীয় সংবাদ ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষক জানিয়েছে, একাধিক অভিযানে সাধারণ মানুষও নিহত বা আহত হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন জুবা অঞ্চলের কিছু হামলায় শিশুসহ অনেকে প্রাণ হারিয়েছে—এমন দাবি স্থানীয়দের এবং স্বতন্ত্র সূত্রের। এগুলোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্কতা জানিয়েছে এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির জন্য আরও তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

সোমালিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় শক্তিহীনতার কারণে জঙ্গি সংগঠনগুলোর কবলে পড়ে আছে। আল-শাবাব ও আইএসআইএস-এর মতো সংগঠনগুলো প্রায়শই ক্ষমতা বিস্তার ও এলাকাজুড়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অসংগঠিত অবস্থার মধ্যে বাইরে থেকে তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

সোমালিয়ার মার্শাল প্রশাসন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী বিমান হামলার রাজনৈতিক ও মানবিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, যতই জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মোকাবিলা করতে হোক, তেমনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং মানবিক ভিত্তিক শান্তি প্রক্রিয়া বজায় রাখা জরুরি।

এদিকে আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের বক্তব্য, এসব অভিযান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টার অংশ। তাদের মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলোকে খতম করা না হলে তা শুধু দেশটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেনা, বরং বহির্বিশ্বে ভয়াবহ হামলার সৃষ্টি করতে পারে।

সর্বশেষ পর্যন্ত, ২০২৫ সালে সোমালিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার বৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন সামরিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণ কাজ করছে। এর ফলে দেশটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রভাব কমছে কি বা সাধারণ মানুষের জীবন আরও বিপন্ন হচ্ছে—এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *