টেনিস বিশ্বের বহুল আলোচিত প্রদর্শনী ম্যাচ ‘ব্যাটল অব দ্য সেক্সেস’-এ নারী বিশ্বের এক নম্বর তারকা আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার নিক কিরগিওস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কিরগিওস সরাসরি সেটে ৬-৩, ৬-৩ গেমে জয় লাভ করেন। ১৯৭৩ সালের ঐতিহাসিক বিলি জিন কিং এবং ববি রিগসের লড়াইয়ের আদলে আয়োজিত এই ম্যাচটি টেনিস প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল।
ম্যাচের বিশেষ নিয়মাবলি পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়ের শারীরিক শক্তি ও গতির পার্থক্য কমিয়ে লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এই ম্যাচে কিছু বিশেষ নিয়ম যুক্ত করা হয়েছিল। নিয়মানুযায়ী, প্রতিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা মাত্র একটি সুযোগ পেয়েছিলেন (সাধারণত দুটি সুযোগ থাকে)। এছাড়া সাবালেঙ্কার কোর্টের আয়তন কিরগিওসের তুলনায় ৯ শতাংশ ছোট রাখা হয়েছিল, যাতে কিরগিওসের শক্তিশালী শট মোকাবিলা করা সাবালেঙ্কার জন্য সহজ হয়।
লড়াইয়ের বিবরণ তিন মৌসুমে মাত্র ছয়টি এটিপি (ATP) ম্যাচ খেলা কিরগিওস বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭১তম স্থানে থাকলেও কোর্টে তার দাপট অটুট ছিল। অন্যদিকে চারবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী ২৭ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক টেনিস উপহার দেন। দ্বিতীয় সেটে কিরগিওস কিছুটা হাঁপিয়ে উঠলে এক পর্যায়ে সাবালেঙ্কা ৩-১ গেমে এগিয়ে যান। তবে অভিজ্ঞ কিরগিওস দ্রুত খেলায় ফেরেন এবং টানা কয়েক গেম জিতে ৩-৩ সমতা আনেন। শেষ পর্যন্ত কৌশলী ড্রপ শট এবং সার্ভিসের বৈচিত্র্য কাজে লাগিয়ে ৩০ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলিয়ান তারকা জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জয়ের পর কিরগিওস তার প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, “সত্য়ি বলতে এটি একটি অত্যন্ত কঠিন ম্যাচ ছিল। সাবালেঙ্কা একজন অসাধারণ প্রতিযোগী। সে যেভাবে চাপ তৈরি করেছিল, তাতে আমাকে বেশ লড়াই করতে হয়েছে।” অন্যদিকে হারের পরেও সাবালেঙ্কা বেশ ইতিবাচক ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি বেশ ভালো বোধ করছি এবং দারুণ লড়াই দিয়েছি। সে (কিরগিওস) ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল, যা দেখে আমি খুশি ছিলাম। আমি আবারও তার সাথে খেলতে চাই।” এই রোমাঞ্চকর লড়াইটি দর্শকদের শুধু বিনোদনই দেয়নি, বরং আধুনিক টেনিসে পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়দের দক্ষতার এক নতুন মেলবন্ধন তৈরি করেছে।
