২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর গিনিতে প্রথম ভোট: জয়ের পথে সামরিক জান্তা প্রধান

পশ্চিম আফ্রিকার খনিজ সমৃদ্ধ দেশ গিনিতে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটে বর্তমান সামরিক শাসক জেনারেল মামাদি ডুমবুইয়ার জয়লাভের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ৬.৭ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।

ডুমবুইয়ার উত্থান ও বিরোধীদের অবস্থান ৪১ বছর বয়সী প্রাক্তন স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডার মামাদি ডুমবুইয়া ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডেকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। এবারের নির্বাচনে তিনিসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রধান বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনকে একটি ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে বয়কটের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি, ডুমবুইয়া পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এই সাজানো নির্বাচনের আয়োজন করেছেন। নির্বাসিত বিরোধী নেতা সেলু ডালিন ডায়ালো এই প্রক্রিয়াকে গণতান্ত্রিক বৈধতা দেওয়ার একটি অপচেষ্টা বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

গণতন্ত্র বনাম কর্তৃত্ববাদ ২০১০ সালে আলফা কন্ডের মাধ্যমে গিনিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সূচনা হলেও ডুমবুইয়ার শাসনামলে দেশটি পুনরায় কর্তৃত্ববাদের দিকে ফিরে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করেছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করেছে এবং বিরোধীদের কর্মকাণ্ডে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, বিরোধী নেতাদের গুম করা এবং গণমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে ডুমবুইয়া সম্প্রতি সংবিধানে পরিবর্তন এনে সামরিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে নিজের পথ প্রশস্ত করেছেন।

অর্থনীতি ও খনিজ সম্পদের প্রভাব গিনি বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইট আমদানিকারক দেশ এবং সিম্যান্ডো নামক বিশ্বের অন্যতম বৃহত লৌহ আকরিক খনির মালিক। ডুমবুইয়া তার শাসনামলে গিনির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে জাতীয়তাবাদী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছেন, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। অনেক তরুণ মনে করেন, ডুমবুইয়া পুরাতন ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক শ্রেণিকে বিদায় দেওয়ার একটি সুযোগ। তবে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫২ শতাংশ মানুষ এখনো চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আগামী দুই দিনের মধ্যে ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্ধারণ করবে গিনি কি পুনরায় গণতন্ত্রের পথে ফিরবে নাকি সামরিক নেতার অধীনেই নতুন অধ্যায় শুরু করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *