আল জাজিরার এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের ৬০ বছর বয়সী সাংবাদিক মিরোশনিক ভাসিল সাভিচের সাহসী সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। তিনি রুশ সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোতে নিজের সম্পাদিত সংবাদপত্র ‘জোরিয়া ভিসনিক’ (Zorya Visnyk – দ্য ডন বুলেটিন) পৌঁছে দিয়ে রুশ অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। নিবন্ধের মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
ভাসিল সাভিচ প্রতি সপ্তাহে নিজের ২০০৫ সালের রেনল্ট ৪x৪ গাড়িতে করে বিপজ্জনক এবং বিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোতে সংবাদপত্র পৌঁছে দেন। এই গ্রামগুলো রুশ বাহিনীর ক্রমাগত গোলাবর্ষণ এবং ড্রোন হামলার শিকার। অনেক এলাকায় মোবাইল সিগন্যাল জ্যাম করে রাখা হয়েছে এবং রুশ রেডিও-টেলিভিশনের অপপ্রচার চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাসিলের সংবাদপত্রই অনেক বাসিন্দার কাছে খবরের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস।
ভাসিল জানান, যখন রুশ বাহিনী হাসপাতাল বা সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়, তখন তারা সেগুলোকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাবি করে। তার মূল লক্ষ্য হলো গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে সত্য তথ্য প্রচার করা এবং রুশ মিথ্যার মোকাবিলা করা। এই কাজের কারণে তার নিউজ রুম ১০ বার হামলার শিকার হয়েছে। ২০২২ সালে রুশ গোলার আঘাতে তার অফিস আংশিক ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, সেদিন তিনি একটু দেরি করে কাজে আসায় প্রাণে বেঁচে যান।
আর্থিক সংকট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি সত্ত্বেও ভাসিল এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধের কারণে সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যা ৪,০০০ থেকে কমে অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। তিনি নিজে এখন আর বেতন নেন না এবং তার স্বল্পসংখ্যক কর্মীদের বেতন মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও ১৫ রিভনিয়া (প্রায় ৩৫ টাকা) মূল্যের এই পত্রিকাটি তিনি নিয়মিত পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের কাছে, যারা এখনও গ্রাম ছাড়েননি।
সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা, যাদের অধিকাংশই বয়স্ক, ভাসিলের আগমনের অপেক্ষায় থাকেন। তাদের কাছে এটি কেবল খবর নয়, বরং কেউ যে তাদের মনে রেখেছে এবং পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি—সেই আশার প্রতীক। ভাসিল বলেন, “তারা আমার জন্য অপেক্ষা করে। যখন আমি আসি, তারা লাইনে দাঁড়ায়—খবরের চেয়েও বড় কথা হলো, কেউ একজন তাদের কাছে এসেছে, কেউ তাদের এখনও ভোলেনি।”
