বরিশালের উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে একটি বিস্ফোরক মামলায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামি করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কর্মীরা। বুধবার সকালে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুর—এই তিন উপজেলার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গৌরনদী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের আহ্বায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে দৈনিক দেশ রূপান্তর ও আজকের পরিবর্তন পত্রিকার প্রতিনিধি শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিস্ফোরক মামলায় জড়ানো হয়েছে। সভায় বক্তব্য রাখেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের কো-আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম জহির, খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান রিপন, খোকন আহম্মেদ হীরা, বদরুজ্জামান খান সবুজ এবং কাজী আল-আমিনসহ আরও অনেকে।
বক্তারা আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই মিথ্যা ও সাজানো মামলা থেকে সাংবাদিক বাচ্চুকে অব্যাহতি দিতে হবে। অন্যথায় তিন উপজেলার সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তারা এই বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে বক্তারা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উজিরপুরের সোনারবাংলা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি ককটেল ও দুটি পেট্রোল বোমা উদ্ধার করে। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার কথা থাকলেও, রহস্যজনকভাবে বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ হাওলাদারকে বাদী করে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়। এই মামলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাংবাদিক বাচ্চুকেও আসামি করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মামলার বাদী সবুজ হাওলাদার নিজেই গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন যে, আসামিদের সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং দলের সিনিয়র নেতাদের চাপে পড়ে তিনি বাদী হতে বাধ্য হয়েছেন।
