প্রভাবশালীদের দখলের দাপটে অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী -সাউদের খাল। খালটির বৃহত্তর ব্যবসায়ী বন্দর টরকীর বন্দর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটর খাল প্রায় ২৫ জন প্রভাবশালী দখলে নিয়ে ভরাট করে তার উপর স্থাপনা নির্মান করেছেন। গৌরনদী উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে খালের মধ্যে থাকা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে খাল কেটে নদীর সাথে সংযোগ স্থপন করে খালে পনি প্রবাহ সচল করেছে। অভিযানের নেতৃত্বে দেন গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূূমি) মোঃ রাজিব হোসেন খান।
গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূূমি) মোঃ রাজিব হোসেন খান জানান, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী -সাউদের খাল প্রভাবশালীরা দখল করে স্থাপনা নির্মান করে খালটি ভরাট করেছে। ফলে খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় বোরা চাষে সেচ সংকট দেখা দেয়। খালটি দখলদার মুক্ত করার জন্য গত এক মাস ধরে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান, মাইকিংসহ প্রচার প্রচারনা চালানো হয় কিন্তু কোন দখলদার স্থাপনা অপসারন করেননি। রোববার সরেজমিনে গিয়ে কিছু অবৈধ স্থপনা ভাঙ্গা শুরু করলে দখলদারা নিজেরা সরিয়ে নেওয়ার নেওয়ার ওয়াদা করেন কিন্তু সরিয়ে না নেওয়ায় মঙ্গলবার সকালে দুটি বুলড্রেজার ও স্কাভেটর নিয়ে অভিযান পরিচালণা করা হয়। এ সময় সরকারি খালের মধ্যে থাকা পাকা-আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয় এবং একই সাথে খাল কেটে নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে দেয়ায় খালে পানি প্রবাহ শুরু হয়। তবে একদিনে এসব অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্নভাবে অপসারন করা যাবে না। এ কার্যক্রম অব্যহত থাকবে। পুরো খালটি দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা অপসারন অব্যহত থাকবে।
স্থানীয়রা জানান, আড়িয়াল শাখা নদী পালরদী নদীর টরকী মোহনা থেকে উত্তরে প্রবাহমান প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটর দৈর্ঘ টরকী-সাউদের খাল। দক্ষিনাঞ্চলের বৃহৎ ব্যবসায়ী বন্দর টরকী বন্দরের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী, ক্রেতা. বিক্রেতার মালামাল পরিবহনসহ এলাকার সুন্দরদী, টরকীরচর, বাউরগাতি, বাঘমারা গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকদের ফসল উৎপাদন ও পরিবহনে খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ন । প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের দখলের ফলে খালটির প্রায় ১ কিলোমিটর জায়গা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এতে দখলদাররা পাকা, আধাপাকা ভবনসহ নানা স্থাপনা তৈরী করে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবসা বানিজ্য করছেন। বর্তমানে খালটিতে পানি চলাচল সম্পূর্নভাবে বন্ধ রয়েছে। দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন, টরকী বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মালেক দেওয়ান, আজিজ মাল, রহুল সিকদার, রব সিকদার, মোঃ ফরহাদ মুন্সী, কমল রায়, শাহ আলম খান, শামীম খান, প্রায়াত মাইনুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, কায়েস শরীফ, জাকির শরীফসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি। দখলদাররা সকলে প্রভাবশালী রাজতৈনিক দল আওয়ামীলীগ বিএনপির নেতাকর্মী। এরা সকলেই খাল ভরাট করে নির্মান করেছেন পাকা, আধাপাকা ভবনসহ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।
দখলমুক্ত হল টরকী-সাউদের খাল, পানি প্রবাহ সচল করতে গুড়িয়ে দেয়া হল স্থাপনা
