পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার ভোরে পৃথক স্থান থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোররাতে পায়রাবন্দর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের পাইপ বয়া এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ‘এমভি ছিদ্দিক’ নামের মাছ ধরা ট্রলারটি ৬ জন জেলে নিয়ে সেখানে নোঙর করা অবস্থায় হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
উদ্ধার অভিযান ও হতাহত
-
জীবিত উদ্ধার: ট্রলারডুবির পর ৪ জন জেলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর একটি অন্য ট্রলারের সাহায্যে জীবিত উদ্ধার হন। তারা হলেন—সিদ্দিক জোমাদ্দার, শাওন, রাব্বী ও রাসেদ।
-
নিহত: নিখোঁজ বাবা শামীম জোমাদ্দার (৩৪) এবং ছেলে সিয়াম জোমাদ্দারের (১১) মরদেহ পরে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের ভেতর থেকে বাবার এবং শুক্রবার ভোরে একটি ডুবচর থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্য নিহত শামীমের বাবা এবং ট্রলারের মালিক সিদ্দিক জোমাদ্দার অত্যন্ত আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান যে, তার বড় ছেলে ও নাতিকে হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তিনি এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবচরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করার পর স্বজনদের সহায়তায় মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
