আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরে ব্যাপক কোন্দল ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনের গুঞ্জনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা শেষ পর্যন্ত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দাঁড় করানোর দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া): বহিষ্কৃত ও ত্যাগী দ্বন্দ্ব
এই আসনটি একসময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানে মনোনয়ন ঘিরে ত্রিমুখী সংকট তৈরি হয়েছে:
-
রফিকুল ইসলাম জামালের মনোনয়ন ও বিতর্ক: বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তাকে নিয়ে দলের একাংশে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কম্বল বিতরণ করেছেন এবং তাদের নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছেন, যা তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।
-
গোলাম আজম সৈকতের অনড় অবস্থান: ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আজম সৈকত মনোনয়ন পরিবর্তনের আশায় গত ২২ ডিসেম্বর নিজের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রাজনীতি করা দলীয় আদর্শের পরিপন্থী, যা ভোটারদের নেতিবাচক বার্তা দেবে।
-
ভোটের সমীকরণ: এ আসনে মোট ভোটার ২,২৮,৪৯৭ জন। বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিতে পারে মাঠে থাকা অন্যান্য ইসলামী দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
ঝালকাঠি-২ (নলছিটি-ঝালকাঠি): ইলেন ভূট্টোকে নিয়ে ধোঁয়াশা
সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টোকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
-
বৈঠকে অনুপস্থিতি: ঢাকায় মনোনয়নপ্রাপ্তদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইলেন ভূট্টোকে আমন্ত্রণ না জানানোয় জল্পনা ছড়িয়েছে যে, এখানেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।
-
বিদ্রোহী প্রার্থীর আশঙ্কা: যদি তৃণমূলের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটে, তবে এখানেও বিকল্প প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অবস্থান
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানিয়েছেন যে, প্রতীক বরাদ্দের পর কোনো বিভাজন সহ্য করা হবে না। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শাসানি তৃণমূলের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
