বরিশালের গৌরনদীতে একটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বার্থী ও ডুমুরিয়া গ্রামের কয়েকশ চাষি বার্থী-ভালুকশী সড়কের পশ্চিম বার্থী ব্রিজ এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এসময় উত্তেজিত কৃষকরা খালের খনন কাজ বন্ধ করে দেন এবং মাটি কাটার যন্ত্র (ভেকু) আটকে রাখেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় কৃষক আ. গনি সরদার। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের অধীনে বার্থী ও ডুমুরিয়া গ্রামের প্রায় ৪ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের দায়িত্ব পায় ‘আজাদ এন্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারের লোকজন খালের তলা থেকে সিডিউল অনুযায়ী মাটি না কেটে লোকদেখানো প্রলেপ দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ভেকু চলাচলের অজুহাতে খালের পাড়ের কৃষকদের ফসলি জমি, পান বরজ ও গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। এমনকি পশ্চিম বার্থী পুরনো জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের প্রায় ১১শ ফুট যাতায়াতের রাস্তা ভেকু দিয়ে কেটে ফেলায় রাস্তাটি কয়েক ফুট নিচু হয়ে ধসে পড়েছে।
কৃষকদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পুলিশের ভয় দেখিয়ে খালের এক পাড়ের মালিকদের ক্ষয়ক্ষতি মানতে বাধ্য করছে। খালের মাঝখানের মাটি তীরের ফসলি জমিতে ফেলায় চাষাবাদ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সিডিউল অনুযায়ী সঠিক গভীরতায় খনন না করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বার্থী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু বাশার সরদারসহ অন্যান্য বক্তারা। তারা অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. মামুন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, মাটি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় খননে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, বরিশাল বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী আতাঈ রাব্বি জানিয়েছেন, প্রতি কিলোমিটার খালের জন্য বরাদ্দ সর্বনিম্ন ১১ লাখ টাকা। কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং সিডিউল বহির্ভূত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
