ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢালচরে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো শত শত পরিবার বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া এসব মানুষ এখন নদীর তীর, রাস্তার ধার কিংবা বন বিভাগের বাগানে তেরপাল ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মাটিতে ঘুমানো এবং সাপ ও বন্যপ্রাণীর আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটছে তাদের। নদীভাঙনের শিকার কাঞ্চন মুন্সির মতো অনেকেই জানিয়েছেন, বারবার ভাঙনের কবলে পড়ে তারা এখন দেনায় জর্জরিত এবং মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢালচর ইউনিয়নে হাজার হাজার একর সরকারি খাস জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও ভূমিহীনদের মাঝে তা বণ্টন বা বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে না। প্রায় ১২ হাজার মানুষের এই ইউনিয়নে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখন ভূমিহীন। বন বিভাগের বাগানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত সেখান থেকে উচ্ছেদ করার ভয় দেখানো হচ্ছে। তারা বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন যেন দ্রুত এসব খাস জমি ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়, যাতে তারা অন্তত একটু সুস্থভাবে বাঁচার সুযোগ পায়।
এই বিষয়ে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানিয়েছেন, ঢালচরের ভূমিহীনরা যদি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খাস জমি পাওয়ার জন্য আবেদন করেন, তবে তা যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে যারা প্রকৃতপক্ষেই জমি পাওয়ার যোগ্য, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের মাঝে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
