শীতের আগমনে প্রকৃতির পরিবর্তনের পাশাপাশি আমাদের শরীরে ও মনেও নানা পরিবর্তন আসে। ঠান্ডাজনিত শারীরিক সমস্যার দিকে আমরা নজর দিলেও এ সময় অনেকের মধ্যে যে মানসিক অবসাদ, বিষণ্নতা বা আলসেমি দেখা দেয়, তাকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিই না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার’ বলা হয়। তবে সঠিক খাদ্যতালিকা এবং জীবনযাপনের মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
শীতকালে আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং রোদের স্বল্পতার কারণে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব হতে পারে, যা সরাসরি আমাদের মন মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এ সময় খাদ্যতালিকায় বিশেষ কিছু পুষ্টি উপাদান রাখা জরুরি:
১. ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম: সূর্যালোকের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ বা পনির খাওয়া মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিদিন কিছু সময় গায়ে রোদ লাগানো শরীরের জন্য খুব জরুরি।
২. ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছ, বাদাম এবং তিসির বীজে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি থাকে। এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং বিষণ্নতা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখে।
৩. ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম: শীতকালীন ফল যেমন কমলা, মালটা বা লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক ক্লান্তি দূর করে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন কলা বা ডাবের পানি স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
৪. ভেষজ পানীয় ও জলশোধন: শীতে পানির তৃষ্ণা কম পাওয়ায় অনেকে পানি পান কমিয়ে দেন। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। সাধারণ পানির পাশাপাশি কুসুম গরম পানিতে আদা, লেবু, তুলসী পাতা বা মধু মিশিয়ে খেলে শরীর চনমনে থাকে। অতিরিক্ত কফি বা কড়া চা পানের অভ্যাস কমিয়ে গ্রিন টি বা মশলা চা বেছে নেওয়া ভালো।
৫. শারীরিক পরিশ্রম: শীতের সকালে জড়তা কাটিয়ে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাচলা করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে প্রফুল্ল রাখে।
শীতের এই সময়ে ডায়েটে একটু সচেতন হলে কেবল শারীরিক সুস্থতাই নয়, মানসিক প্রশান্তিও নিশ্চিত করা সম্ভব।
