বাংলাদেশে গত দেড় দশকে সিরামিক শিল্প এক বিশাল সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আবাসন খাতের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার এবং টেবিলওয়্যারের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। তবে বর্তমানে এই খাতের উদ্যোক্তারা কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যথাযথ নীতি সহায়তা এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে সম্প্রতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিরামিক খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় সিরামিক পণ্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের তৈরি সিরামিক পণ্য এখন ইউরোপ ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতেও রপ্তানি হচ্ছে। মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের কারণে বিশ্ববাজারে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগটি এখন বেশ বিশ্বস্ত হয়ে উঠেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, সিরামিক শিল্প একটি গ্যাস-নির্ভর শিল্প। তাই নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত গ্যাস সরবরাহ ছাড়া এই খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়া বজায় রাখা কঠিন। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং মাঝে মাঝে চাপের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। তারা সরকারের কাছে এই শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নীতি এবং ট্যাক্স বা শুল্ক কাঠামো সহজ করার দাবি জানিয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, এই খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। যদি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, তবে সিরামিক হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। বর্তমানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারীও বাংলাদেশের সিরামিক শিল্পে অংশীদার হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সঠিক তদারকি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশের সিরামিক খাত কেবল আমদানি বিকল্প নয়, বরং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎস হয়ে দাঁড়াবে।
