বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে একজনের ভোগদখলকৃত জমি অন্য ব্যক্তিকে লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট তহশিলদার ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শাবানা কর্মকার, চিত্র বেপারী, প্রতিভা মালাকার, তৃপ্তি কর্মকারসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি সরকার থেকে বৈধভাবে লিজ নিয়ে দীর্ঘ আটান্ন বছর ধরে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের জনসুব্রত কর্মকার, এলিজাবেথ কর্মকার, এলবার্ট কর্মকার ও ক্লিটন কর্মকার মোট আটাত্তর শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছিলেন।
জানা যায়, ওই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই হাজার একুশ সালে দেবপ্রসাদ কর্মকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। পরবর্তীতে জমিটি পুনরায় লিজ নেওয়ার জন্য দুই হাজার চব্বিশ সালে ভোগদখলকারীরা আবেদন করেন। আবেদন করার পর উপজেলা ভূমি কার্যালয় একাধিকবার তদন্ত করলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়, ভূমি কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে বাকাল গ্রামের কাদের ভাট্টি নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে একই জমির জন্য নতুন করে আবেদন করান। এরপর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট তহশিলদার ও সার্ভেয়ার তদন্তের নামে আটাত্তর শতাংশ জমির মধ্যে আটাশ শতাংশ আলাদা করে কাদের ভাট্টির নামে সুপারিশ করেন। এ বিষয়ে দীর্ঘদিনের ভোগদখলকারীদের কাউকে কিছুই জানানো হয়নি এবং গোপনে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ প্রসঙ্গে বাকাল ইউনিয়নের তহশিলদার সরদার মুজিবুর রহমান আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে যা পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
