গৌরনদীতে পারিবারিক বিরোধে দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গা মন্দির ভাঙার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার সুন্দরদী মহল্লায় আপন ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি দুর্গা মন্দির ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়দের অনেকেই বিষয়টিকে পারিবারিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী নারায়ণ মিত্র জানান, তিনি ১৯৮৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার বড় ভাই বজ্রবিলাস মিত্রের কাছ থেকে সুন্দরদী মৌজার একটি জমি ক্রয় করেন। ওই জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে অবস্থিত ছিল ঐতিহ্যবাহী ‘সুন্দরদী মিত্র বাড়ি দুর্গা মন্দির’, যেখানে বংশপরম্পরায় প্রায় দেড়শ বছর ধরে দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তার দাবি, গত ২৫ নভেম্বর সকালে বড় ভাইয়ের ছেলে রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র লোকজন নিয়ে এসে পুরোনো এই মন্দিরটি ভেঙে ফেলে এবং জোরপূর্বক জায়গাটি দখলে নেয়।

নারায়ণ মিত্রের ছেলে নন্দ মিত্র বলেন, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মন্দিরটি ধ্বংস করা হয়েছে। দখল সহজ করতে রাতের আঁধারে মন্দিরের প্রতিমা ও পূজার সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয় এবং কিছু মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এটি শুধু জমি দখলের চেষ্টা নয়, বরং তাদের ধর্মীয় অনুভূতির ওপরও নির্মম আঘাত।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে রিপন মিত্র ও সুমন মিত্র দাবি করেন, জমিটি তারা ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছেন। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও থাকার জায়গার অভাবের কারণে মন্দির সরিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তারা জানান।

সুন্দরদী মিত্র বাড়ি দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ননী দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন। মন্দির ভাঙার খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। তার ভাষায়, মন্দির শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি এলাকার মানুষের বিশ্বাস, অনুভূতি ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক।

মন্দির ভাঙার ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি মন্দির ধ্বংস করা আইনবিরোধী হওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত। স্থানীয় সনাতন সমাজ দখলকৃত জমি উদ্ধার, মন্দির পুনঃস্থাপন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, যেহেতু বিষয়টি জমি সংক্রান্ত এবং উভয় পক্ষই মালিকানা দাবি করছে, তাই তাদের দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *