বাংলাদেশে প্রতি বছর এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা নদীর ভাঙন, সমুদ্রের পানি বাড়া, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততা-বৃদ্ধির মতো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিজ জমি হারিয়ে ফেলছেন। জমির সঙ্গে যা যুক্ত ছিল — খানাপিনা, পরিচয়, সামাজিক নিরাপত্তা — সবই হারিয়ে যাচ্ছে। প্রচুর মানুষ হয়ে পড়ছেন এমন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ হয়নি, তাদের দেশবদলী হয়নি, তবু তারা বাস ছাড়া হয়ে পড়েছেন।
বর্তমান আইন ও জমি-সম্পর্কিত বিধি বড় ধরনের পরিবর্তন না হলে, এমন পরিবারগুলোকে তারা নিজ দেশে থাকতে হলেও, তারা হয়ে যাচ্ছেন “নির্দিষ্ট অধিকারহীন” — গৃহহীন, ভূমিহীন, পরিচয়হীন। এমন পরিস্থিতিতে, সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার, নিরাপত্তা বা পুনর্বাসনের কোনো গ্যারান্টি নেই।
এই কারণেই ধারণা করা হয়েছে, “জলবায়ু-বছাড়প্রাপ্ত” বা “জলবায়ু-বাস্তুহারা” নামে এমন একটি শ্রেণি আইনগতভাবে স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। অর্থাৎ, শুধু বন্যা বা ঝড়ের সময় সাময়িক সঙ্কট বিবেচনায় নয় — স্থায়ী ভাবে তাদের বাসস্থান হারানোর কারণ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
আইনগত স্বীকৃতি পেলে, তাদের জন্য পুনর্বাসন, পুনর্বন্টন, সামাজিক নিরাপত্তা, পুনর্বাসনমূলক ভূমি বরাদ্দ, জাতিগত ও নারীসহ সংবেদনশীল পুনর্বাসন — সবকিছু পরিকল্পিতভাবে সম্ভব। বিশেষ করে, যারা বিধবা, ভূমিহীন, দরিদ্র বা সামাজিকভাবে সংবেদনশীল পরিবার — তারা পুনর্বাসন ছাড়াও নিজের পরিচয়, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ফিরে পাবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সংবিধানে জীবন, জীবিকা ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু যখন “জমি” আর থাকছে না, তখন ওই অধিকারগুলো আদতে অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে। তাই শুধুমাত্র কল্যাণমূলক নীতি বা পরিকল্পনা নয় — আইনগত সংস্কার প্রয়োজন।
অনেক আইনবিদ, পরিবেশ-নাগরিক এবং সমাজকর্মী বলছেন — এমন পরিবর্তন দরকার যাতে জলবায়ু-বছাড়প্রাপ্তরা “দৃষ্টিনন্দন” বা “অদৃশ্য” হয়ে না যায়। তাদেরও আইনগত অধিকার থাকা উচিত; যাতে তারা সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন পেতে পারে।
যদি এখনই আইনগত স্বীকৃতি ও উপযুক্ত নীতি গঠন করা যায় — তাহলে বাংলাদেশ শুধু জায়গা হারানো মানুষদের জন্য না, পৃথিবীর অন্যান্য অংশের ‘জলবায়ু শরণার্থী’দের জন্যও একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
