দৈনন্দিন রাজনীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় একটি বিপজ্জনক ধারা লক্ষ্য করা যায় — কিছু মানুষ বা দলকে “চরম ইতিবাচক” এবং বাকিদের “চরম নেতিবাচক” হিসেবে দেখার প্রবণতা। তারিফ রহমান এই মনোভাবকে গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি বলেছেন। তিনি মনে করেন, একজন ব্যক্তিকে বা দলকে সবদিক থেকে শ্রেষ্ঠ ধরে বাকিদের সবসময়ই নেতিবাচক বললে — বৈচিত্র্য, মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ধ্বংস হয়ে যায়।
তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পার্টি, দল-ভাব, নীতি-আদর্শের গুরুত্ব রয়েছে — শুধু ব্যক্তির জনপ্রিয়তা নয়। মানুষ এবং সমাজের উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন সবাইকে সমান সুযোগ, সমান অধিকার দেওয়া হয় এবং ভিন্ন মতকে গৃহীত করা হয়। তারিফ রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বিগত বহু বছর ধরে এই “একজনই সবখানে” ধারনা প্রচলিত। পরিবর্তন বা সময় বদলেও, এই মনোভাব এখনও রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকট—অর্থনৈতিক মন্দা, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে, শিল্প কারখানার অবস্থা, বিনিয়োগের অভাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সঙ্কট — এসব সমস্যার মূলে গণতান্ত্রিক অবক্রিয়াশীলতা ও দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। তাই একটি দায়শীল, পরিকল্পিত, দল-ভিত্তিক রাজনীতি এবং সরকারের জবাবদিহিতা জরুরি।
তারিফ রহমান আরও বলেন, নির্বাচনে বা রাজনীতিতে শুধু ব্যক্তির প্রতি আবেগ নয়; নীতি, কর্মদৃষ্টিকোণ এবং দল হিসেবে যে পরিকল্পনা রয়েছে — সেটা বিচার্য। তিনি দলের প্রতীক ও কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে দলপ্রার্থীর ব্যক্তিত্বের আগে।
এই অবস্থান থেকে একটি সতর্কবার্তা পাওয়া যায়: গণতন্ত্র শুধুই ভোট বা নির্বাচন নয়; এটি একটি সাংগঠনিক, ন্যায্য এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থার নাম। যেখানে মানুষ, মতবাদ, সুযোগ-অধিকার সর্বজনীন হবে। যদি আমরা “এককে দেব, বাকিদের বাদ” এর মতো মনোভাব গ্রহণ করি — তাহলে আসল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই সংকটে পড়বে।
