পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। তিনি ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে বিএনপির এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক হতাশা ও সিদ্ধান্তহীনতা তৈরি হয়েছে।
দলের দুঃসময়ে মাঠে সক্রিয় থাকা স্থানীয় নেতাদের বাদ দিয়ে অন্য দলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের অনুসারীরা এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে নিতে পারছেন না।
তৃণমূলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে:
-
সোবহান মিয়া (দিনমজুর): “নুর আন্দোলনে মানুষের পাশে ছিলেন, তিনি এলাকার গর্ব। তাকেই এমপি দেখতে চাই।”
-
ইদ্রিস বিশ্বাস (রিকশাচালক): “মিছিল-মিটিংয়ে সবসময় হাসান মামুনকে দেখেছি, তাকেই চাই।”
-
রফিক মিয়া (ভ্যানচালক): “নুর একটি দলের প্রধান, উন্নয়নের জন্য তিনিই ভালো হবেন।”
নেতাদের অনড় অবস্থান ও ক্ষোভ:
স্থানীয় বিএনপি নেতারা দলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অনেকটা প্রকাশ্যেই অবস্থান নিয়েছেন:
-
শাহ আলম শানু (সাধারণ সম্পাদক, দশমিনা বিএনপি): তিনি জানান, মনোনয়ন কাকে দেওয়া হয়েছে সেটি বড় কথা নয়, কী করবেন তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
-
খোরশেদ আলম (সিনিয়র সহ-সভাপতি, দশমিনা বিএনপি): তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নুরকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নেতাকর্মীদের পক্ষে তাঁর জন্য কাজ করার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।
-
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান (সভাপতি, গলাচিপা বিএনপি): তিনি ঘোষণা দেন যে, মনোনয়ন যাকেই দেওয়া হোক না কেন, তাঁরা হাসান মামুনের পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন।
সর্বশেষ পরিস্থিতি:
মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বুধবার নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নুরের জন্য ফরম সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে, গত সোমবার হাসান মামুনের পক্ষেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নুরুল হক নুরের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে, যেখানে জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে খোদ বিএনপির স্থানীয় অংশই মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
