নতুন রাজনীতি নয়, পুরনো সহিংস-রাজনীতিতে ফিরছে জামায়াত — বলছে NCP

গত ৮ ডিসেম্বর, NCP একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, জামায়াত-ইস্লামী এখন আবার “পুরনো সহিংস-রাজনীতি ও আধিপত্যবাদী ব্যবস্থার নতুন খেলোয়াড়” হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে। এই মন্তব্য এসেছে তখন, যখন জামায়াত সম্প্রতি NCP নেতা একতার হোসেনের উপরে তাদের সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। NCP–র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জামায়াতের এই কাজ দেশ এবং গণতন্ত্রের জন্য “ভয়ংকর সংকেত”।

একতার হোসেন একটি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ভাষা, ধর্ম বা প্রতিরোধ নয় — রাজনীতি ও সমাজ বদলের পথ নতুন হওয়া উচিত। কিন্তু তার পরে জামায়াত নোয়াভাবে একতার হোসেনের বক্তব্যকে “ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসেবে অভিহিত করে। NCP–র মিডিয়া সেল প্রধান মোশফিকুর উস সালেহিন বলছেন, জামায়াতের এই প্রতিক্রিয়া, এবং তাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ — দুটোই প্রমাণ করছে তারা পুরনো গণ্ডিতে ফিরতে চাইছে: অস্ত্র, ভয় ও ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতিতে।

তারা বলছেন, সম্প্রতি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকায় এক জামায়াত কর্মী অস্ত্রসহ ধরা পড়েছে। NCP–র মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শুধুই রাজনৈতিক বক্তব্য নয় — বাস্তবদেহেও তারা আগুন, লাঠিসেটাসহ Gewalt (হিংসা) ফিরিয়ে আনতে চায়।

NCP–র দাবি — জামায়াত ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভাজন ও ভয়-ভীতি ছড়াতে আগ্রহী। তারা বলছেন, জনমতের বৃত্ত সৃষ্টি করে, বিরোধীদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবদ্ধ করে এবং পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নতুনভাবে রূপ দিতে চায়। NCP–র মতে, সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ এবং প্রগতিশীল রাজনীতির চেয়ে জামায়াতের পরিকল্পনা পুরনো পার্টি ও গোষ্ঠীগুলোর মতোই।

এই বিতর্ক ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ বাড়িয়েছে। আগামী নির্বাচনের দিকে এগিয়ে — যখন রাজনৈতিক দলগুলোর দিক পাল্টানোর, জোট গঠনের ও মনভাব ঘুরানোর চেষ্টা হবে — তখন এই ধরনের অভিযোগ এবং প্রতিরোধ আরও গুরুত্ব পাবে।

যে দর্শকরা গণতান্ত্রিক পরিবর্তন চাইছেন, তারা এখন দেখছেন: নতুন রাজনৈতিক ভঙ্গি আর নতুন প্রার্থনা নয় — পুরনো মূল্যায়ন, পুরনো হুমকি, পুরনো অস্ত্র নিয়ে রাজনীতি ফিরে আসার চেষ্টা; এবং সেটাই NCP–র ভাষায় “ভয়ঙ্কর সংকেত”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *