নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই শহরের আবাসন সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ সাহসী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি ব্রুকলিনের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, নিউ ইয়র্কের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং আবাসন অধিকার নিশ্চিত করতে তার প্রশাসন কালক্ষেপণ করবে না। “আমরা আর অপেক্ষা করব না”—এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভাড়াটেদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণ ত্বরান্বিত করা।
মামদানির প্রথম নির্বাহী আদেশটির মাধ্যমে ‘মেয়রস অফিস টু প্রটেক্ট টেন্যান্টস’ বা ভাড়াটে সুরক্ষা দপ্তরকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। এই দপ্তরটি বাড়ির মালিকদের শোষণ বা বেআইনি উচ্ছেদ থেকে সাধারণ ভাড়াটেদের রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবে। মেয়র স্পষ্ট করে বলেছেন যে, নিউ ইয়র্কের প্রায় দশ লক্ষ ভাড়াটে পরিবারের জন্য ভাড়ার হার স্থিতিশীল রাখা তার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ভাড়া বৃদ্ধিতে লাগাম টেনে ধরা হবে যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষজন এই ব্যয়বহুল শহরে টিকে থাকতে পারে।
আবাসন সংকট সমাধানে তিনি ‘স্পিড’ (SPEED) নামে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই টাস্কফোর্সের কাজ হবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে এবং অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করে দ্রুত সাশ্রয়ী গৃহ নির্মাণ নিশ্চিত করা। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমিগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নতুন ঘর তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। মামদানির লক্ষ্য হলো আগামী এক দশকের মধ্যে দুই লক্ষ নতুন সাশ্রয়ী ও ইউনিয়ন-নির্মিত ঘর তৈরি করা। ডেপুটি মেয়র লায়লা বোজর্গ এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
জোহরান মামদানির এই পদক্ষেপগুলো তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতি ‘সাশ্রয়ী নিউ ইয়র্ক’ গড়ার প্রচেষ্টারই অংশ। অভিষেকের জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি সরাসরি কাজে নেমে পড়ায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন। তিনি ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট আদর্শে অটল থেকে ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা এবং শিশু যত্ন নিশ্চিত করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক সিটির সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে মামদানি তার মেয়াদের শুরুতেই আবাসন খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এক নতুন প্রশাসনিক ধারার সূচনা করলেন।
