গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর, ইসরায়েল ও হামাস এখন দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি জানাচ্ছে।
► যুদ্ধবিরতি প্রথম ধাপ: কি হয়েছে
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে ছিল — গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পিছিয়ে যাওয়া, বন্দি বিনিময় এবং ত্রাণ প্রবেশসহ হিংসা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু চুক্তি কার্যকালে এও দেখা গেছে, ইসরায়েল বারবার চুক্তিভঙ্গ করেছে, এবং এখনও সহায়তা প্রবেশ, বন্দি মুক্তি ও শান্তি নিশ্চিতকরণের দিক থেকে গাজার পরিস্থিতি মুশকিলেই রয়েছে।
► দ্বিতীয় ধাপ কেন — এবং কী পরিকল্পনা
হামাস ঘোষণা করেছে, তারা গাজায় বন্দি থাকা শেষ ইসরায়েলি ব্যক্তিদের লাশ হস্তান্তর করতে চলেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যেতে আগ্রহী। দ্বিতীয় ধাপ অনুযায়ী গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থার্থতা, পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কাজ হবে — এর মধ্যে থাকতে পারে বহুজাতিক শান্তি রক্ষাকারী দল, রাজনৈতিক পুনরায় গঠন, এবং গর্জা-পরবর্তী প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপে যেতে পারলে এটি “চ্যালেঞ্জিং” হবে, কিন্তু চুক্তির শর্ত মেনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তারা আশা করছে, এই মাস থেকেই ধাপে ধাপে নতুন শুরু হতে পারে।
► কিন্তু সমস্যা ও সংশয় রয়ে গেছে
বিশ্লেষকরা বলছেন — গাজার বাস্তবতা, ইসরায়েলের আগ্রাসন, ত্রাণ সংকট, এবং পূর্ববর্তী চুক্তিভঙ্গার ইতিহাসের কারণে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার পথ মোটেও সহজ নয়। অনেকেই প্রশ্ন করছেন, গাজার নিরপরাধ মানুষ, বন্দি ও নির্যাতিতদের জন্য কি সত্যিই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে?
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলেছে, যদি গাজায় শান্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হয়, তাহলে শুধু যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়; ত্রাণ, পুনর্বাসন, এবং গাজার মানুষদের নিজ দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে।
► কী হবে আগামী দিনে?
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ — বা মাস — গাজার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি দ্বিতীয় ধাপ সুষ্ঠুভাবে শুরু হয়, তাহলে গাজা পুনর্গঠন, বেসামরিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তির দিক খুলতে পারে। কিন্তু চুক্তি ভঙ্গা, রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা নিরাপত্তাহীনতায় ফিরে গেলে সবকিছু আবারই অচল হয়ে যাবে।
