ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে এক কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, যারা সাধারণ মানুষের প্রতিবাদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। খামেনি বলেন, রাষ্ট্র কেবল প্রকৃত বিক্ষোভকারীদের অভাব-অভিযোগ ও দাবি শোনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু ‘দাঙ্গাবাজ’ বা বিশৃঙ্খলাকারীদের সাথে কোনো আপস করা হবে না এবং তাদের নির্দিষ্ট স্থানে (অর্থাৎ বিচারের মুখোমুখি) রাখা হবে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত কয়েক দিন ধরে ইরানে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, তার প্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ নেতার এই কড়া বার্তা।
ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে, যেখানে জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, যা হাজার হাজার মানুষকে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভে জনগণের অর্থনৈতিক যন্ত্রণার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন এবং একে ‘যৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশী শক্তির ইন্ধন দেখছেন। তিনি দাবি করেন যে, ইরান যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে, তখনই শত্রু দেশগুলো প্রশিক্ষিত এজেন্টদের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংসতায় রূপান্তর করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে বেশ কিছু মানুষের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরান বিক্ষোভ দমন করতে সহিংসতা চালায় তবে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিয়েছেন, যা ইরানকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে। ইরান ইতিমধ্যে এই ‘বেপরোয়া’ হুমকির বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ জানিয়েছে এবং একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
খামেনি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানি জাতি অতীতেও অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছে এবং এবারও তারা শত্রুদের সফল হতে দেবে না। তিনি দেশের বুদ্ধিজীবী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আহ্বান জানান যাতে তারা জনগণকে বিদেশী ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন করেন। একই সাথে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা অতি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখে। দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ এবং সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির চাপে পর্যুদস্ত ইরানি নাগরিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, তা সামলানো এখন তেহরানের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনির এই বক্তব্য দেশটিতে বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
