কেন ভারতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক? রঘু রাজারনের ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে — ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। অনেকেই ভেবেছেন, এর কারণ হলো ভারতের রাশিয়া থেকে তেল কেনা এবং সেই কারণে পশ্চিমার প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। তবে রঘু রাজারন বলছেন, বিষয়টি মূলত তেমন ছিল না। তাঁর মতে, এই শুল্ক আরোপের পেছনে ছিল এক ব্যক্তিগত রাজনীতি এবং কূটনৈতিক মনোভাব, অর্থনৈতিক কারণ নয়।

রাজারন উল্লেখ করেছেন, গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের চার দিনের সংঘর্ষের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মিমাংসার মধ্যস্থতা তাঁর কারণে সম্ভব হয়েছে। পাকিস্তান তখন ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু ভারত সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং বলেছিল, সমস্যা সমাধান রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হয়েছে — যুক্তরাষ্ট্র ছিল না। রাজারন বলেছেন, সেই “দৃষ্টিকোণগত অর্থনীতি নয়, ব্যক্তির সাবলীলতা ও অনুভূতি”ই এই শুল্ক আরোপের মূল চালিকাশক্তি ছিল।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, রাজারন বলছেন — রপ্তানির পণ্যের ওপর শুল্ক গুঁজে দেওয়া হয়েছে, সে পণ্য যে রাশিয়ার তেল বা তেলের সংশ্লিষ্ট নয়। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্যে শুল্ক আরোপকে একটি প্রতীকী—or রাজনৈতিক—কাঠিন্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।


এই সিদ্ধান্ত কেন উদ্বেগের — এবং কী প্রভাব পড়তে পারে

এই ধরনের শুল্ক আরোপ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য বড় সংকটও তৈরি করতে পারে। রাজারন মত বিশ্লেষকদের মতে, এতে ভারতের রপ্তানিকারক শিল্প, তেল পণ্য নয় এমন পণ্য রফতানিতে বিপুল ক্ষতি হতে পারে। বিশেষত ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলো — যাদের ওপর এই ধরনের শুল্কের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে।

এছাড়া, যদি এমন শুল্ক কোনো সময় অন্য পণ্যের ওপরও আরোপ করা শুরু হয়, তাহলে ভারতের গ্লোবাল মার্কেটে বিশ্বাস এবং প্রতিযোগিতার সুযোগই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

আরেকটি ঝুঁকি হলো — যখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব রাখে, নিয়ম-নৈতিকতার জায়গা সংকুচিত হয়। বৈদেশিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা — এসব গুরুত্বপূর্ণ গুণ হয়তো ধুম্রজাল হয়ে যেতে পারে।


রাজারনের বক্তব্য থেকে শিক্ষা — এবং ভারতকে এখন কী করা উচিত

রাজারন বলছেন, ভারতকে এখন কেবল দুশ্চিন্তা নয় — পরিকল্পনা ও বিকল্প উপায় দেখতে হবে। বিশেষ করে রফতানি বাজার বৈচিত্র্য, আমদানির উৎস পরিবর্তন, এবং নিজস্ব শিল্পকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ বাড়ানো দরকার। অর্থাৎ, এক জন দেশে নির্ভরশীলতা কমিয়ে, অন্য দেশ, বাজার, পণ্যের ওপর দৃষ্টিপাত করতে হবে।

সঙ্গে–– সিদ্ধান্ত, যদি কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দুই ধরণের হয়, তাহলে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক উত্তেজনা আর অর্থনীতির ক্ষতি— এমন দ্বন্দ্ব থেকে বিরত থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *