আগৈলঝাড়ায় প্রেম করে বিয়ে করায় নববধূর ওপর শ্বশুরবাড়ির হামলা: স্বামীসহ তিনজনের নামে মামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ভালোবাসার টানে ঘর বাঁধার অপরাধে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন লিলি মন্ডল (১৮) নামের এক কলেজছাত্রী। উপজেলার পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে শ্বশুর ও শাশুড়ির হাতে নববধূসহ তার মা ও এক প্রতিবেশী গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় লিলি মন্ডল বাদী হয়ে তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে শুক্রবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শশীকর কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী লিলির সাথে পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের সৌভিক হালদারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তা আইনগত রূপ দেন। বিয়ের পর প্রায় সোয়া এক বছর তারা সুখে সংসার করলেও সৌভিকের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। সম্প্রতি সৌভিকের বাবা তাপস হালদার ও মা নিতু রানী হালদার ক্ষুব্ধ হয়ে ছেলের সাথে লিলির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

ভুক্তভোগী লিলি মন্ডলের অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস স্বামীর সাথে কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে গত বৃহস্পতিবার তিনি তার মা ও এক প্রতিবেশীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। বাড়িতে প্রবেশের পরপরই তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা লিলিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। লিলিকে বাঁচাতে তার মা ববিতা হালদার ও প্রতিবেশী সুবর্ণা হালদার এগিয়ে এলে তাদেরও নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযুক্ত স্বামী সৌভিক হালদার মারধরের কথা স্বীকার করে জানান, পরিবার তাদের বিয়ে মেনে না নেওয়ায় লিলি বাড়িতে আসার পর তার বাবা-মা তাকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং সেই সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে থাকা সরাসরি মারধরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। আগৈলঝাড়া থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *