শীতের তীব্রতা এবং নদীপথে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বরিশাল নদীবন্দর থেকে ঢাকাগামী সব লঞ্চের যাত্রা বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সর্বশেষ পরিস্থিতির আলোকে এই সংবাদের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
লঞ্চ চলাচল স্থগিত ও কারণ ২৯ ডিসেম্বর (রোববার) সন্ধ্যা থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে সরাসরি ঢাকাগামী পারাবাত-১১, পারাবাত-১২, এম খান-৭ এবং সুরভী-৭ লঞ্চের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ভায়া পথে চলাচলকারী সুন্দরবন-১২ লঞ্চটির যাত্রীদেরও নামিয়ে দেওয়া হয়। বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, কুয়াশা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই রুটে লঞ্চ চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এমভি মহারাজ-৭ লঞ্চে দুর্ঘটনা রোববার সকালেই ঢাকা থেকে মুলাদী যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে এমভি মহারাজ-৭ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ নোঙর করা একটি মালবাহী জাহাজের সাথে ধাক্কা খায়। এতে লঞ্চটির দোতলার প্রায় ৩০ ফুট অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে সামনে থাকা জাহাজটি দেখা না যাওয়ায় এই সংঘর্ষ ঘটে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও জনজীবন বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরেই ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না, যার ফলে নৌপথের পাশাপাশি জনজীবনও স্থবির হয়ে পড়েছে। এই তীব্র শীতের মধ্যে হঠাৎ লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় শত শত যাত্রী মালামাল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
নিরাপত্তা উদ্বেগ গত বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের হাইমচরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহতের ঘটনার পর নৌ-কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। বিশেষ করে মেঘনা নদীতে ডুবোচর ও কুয়াশার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
