পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির বড় পরিবর্তন: অধ্যক্ষ আলমগীরকে চূড়ান্ত মনোনয়ন

পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-নেছারাবাদ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরনের নাটকীয়তা শেষে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। এর আগে এ আসনটি জোটের শরিক দলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তন করে নিজেদের ঘরের মানুষকেই বেছে নিল বিএনপি।

মনোনয়ন পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট: পিরোজপুর-১ আসনে প্রথমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে শারীরিক অসুস্থতা এবং বর্তমান বয়সে নতুন করে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে মোস্তফা জামাল হায়দার অনীহা প্রকাশ করায় বিএনপি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।

কেন এই পরিবর্তন? জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত জানান, ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দারের সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার পর তাঁর স্বাস্থ্যগত কারণে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো হয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

পিরোজপুর জেলার অন্যান্য আসনের পরিস্থিতি: পিরোজপুর-১ আসনের মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধোঁয়াশা থাকলেও বাকি দুটি আসনের প্রার্থী বিএনপি আগেই চূড়ান্ত করেছিল:

  • পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ): আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন (সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের ছেলে)।

  • পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): রুহুল আমীন দুলাল (উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক)।

নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া: পিরোজপুর-১ আসনে স্থানীয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জানিয়েছেন, পিরোজপুরের তিনটি আসনেই ধানের শীষকে বিজয়ী করতে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের মতো প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা করছে দলটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *